কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার ঐতিহাসিক এগারসিন্দুর। যেটি একটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে রয়েছে প্রাচীন বাংলার অনন্য নিদর্শন। এ ইউনিয়নেরই একটি গ্রাম মজিতপুর। মজিতপুরে রয়েছে কিংবদন্তির বেবুদ রাজার দীঘি, বৈষ্ণব চূড়ামনি শ্রী শ্রী বংশীদাস বাবাজীর আশ্রম, আংচি চোরার বিলসহ একাধিক প্রাচীন স্থাপত্য।
কথিত আছে, এগারসিন্দুরে বেবুদ নামে একজন হাজং রাজা বাস করতেন। একবার প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়ায় বেবুদ রাজা প্রজাদের হিতার্থে পঞ্চাশ একর জমি বিস্তৃত একটি দীঘি কাটলেন। কিন্তু পানির নাম-গন্ধ নেই। এরই মধ্যে রাজা স্বপ্নে দেখেন যে, তার রানি যদি দীঘিতে নামে তবে পানি উঠবে। স্বপ্নটি রাজা রানিকে জানালে প্রজাদের মুখের পানে চেয়ে রানি দীঘিতে নামতে রাজি হলেন। তাতে রাজাও খুশি হলেন এবং পরদিন রানিণ একবাটি কাঁচা দুধ, পান-সুপারি ও সিঁদুর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দীঘিতে নামলেন। সাথে সাথেই দীঘির চারপাশ থেকে স্বচ্ছ জল এসে দীঘি ভরে গেল। কিন্তু রানি আর দীঘি থেকে উঠতে পারলেন না। চোখের পলকে রানির কেশগুচ্ছ বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিমজ্জিত হয়ে গেল। রাজা রানির জন্য পাগলপ্রায় হয়ে গেলেন। এ দীঘির পানিতে গাছের পাতা কিংবা অন্য কোন কিছু পড়ে থাকলে তা পরদিন সকালে তীরে এসে জমা হয়।
লোকমুখে শোনা যায়, কোন অনুষ্ঠানের জন্য দীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে থালা, বাসন ও অন্যান্য তৈজসপত্র চাইলে পরদিন দীঘির পাড়ে পাওয়া যেত। তবে শর্ত ছিল যা যা নেয়া হত তা সঠিকভাবে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু একদিন কেউ এ শর্ত ভঙ্গ করায় এরপর থেকে তৈজসপত্র আর পাওয়া যায় না। আংটি চোরার বিল এগারসিন্দুরে বেবুদ রাজার দীঘির দক্ষিণ-পূর্বাংশে একটি নিচু জলাশয়ই আংটি চোরার বিল নামে পরিচিত। একদিন বেবুদ রাজা তার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পাশের জলাশয়ে নৌকা বিহারে যেয়ে তন্দ্রা অবস্থায় থাকলে তার এক বন্ধু রাজার হাতের আংটিটি কৌশলে চুরি করার সময় আংটিটি গিয়ে বিলের পানিতে পড়ে যায়। এ অবস্থার পর রাজার কাছে ঘটনা খুলে বললে রাজা উন্মাদ হয়ে যায়। কারণ এ আংটিটি ছিল অলৌকিকভাবে তার দীঘিতে ডুবে যাওয়া পত্নী শম্পা রানি থেকে পাওয়া। তারপর উক্ত বিলের পানি ছেঁকেও আর হারানো আংটিটি পাওয়া যায়নি। সে ঘটনার পর থেকে এ বিলটির নাম হয় আংটি চোরার বিল।