পর্ব -১
ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওইয়ার্ক) এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/ বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে। এছাড়াও মোবাইল কমার্স, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও অন্যান্য আরো কিছু মাধ্যম ব্যবহৃত হয়।
ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B):
ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। ৮০ শতাংশের (৮০%) মত ইলেকট্রনিক কমার্স ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা প্রকার এর অন্তর্ভুক্ত।
ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক (B2C) ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে। এই প্রকারে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ইলেকট্রনিক বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে।
ব্যবসা-থেকে-সরকার (B2G):
ব্যবসা-থেকে-সরকার ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় খাতের মধ্যে। এটি সাধারনত ব্যবহৃত হয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় কেনা/বেচা, লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যাবলী, কর প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক (C2C):
গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যক্তি ও গ্রাহকের মধ্যে। ইলেকট্রনিক বাজার ও অনলাইন নিলাম এর মাধ্যমে সাধারণত এই ধরনের বাণিজ্য সম্পাদিত হয়।
মোবাইল কমার্স (m-commerce):
মোবাইল কমার্স ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় তারবিহীন প্রযুক্তি যেমন মোবাইল হ্যান্ডসেট বা পারসোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট (PDA) এর মাধ্যমে। তারবিহীন যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ধরনের বাণিজ্য জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
গ্রাহক থেকে সরকার (সি টু জি):
কখনো সরসরি জনগনের কাছ থেকে সরকার বিভিন্ন সেবার বিনিময় ফি বা কর নিয়ে থাকে। যখন এর মাঝে কোন মাধ্যমৈ থাকেনা তখন এটা গ্রাহক থেকে সরকার পক্রিয়া বলে বিবেচিত হয়। ডিজিটাল গভর্নেন্স-এর আওতার এ ধরনের সেবা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্লাব বা সংঘ মানেই হলো কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মিলনায়তন। তাউ প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে এ বিষয়ে আপনার বন্ধুবান্ধবের দৃষ্টিকোণ কিরুপ। তারপর দেখবেন ক্লাব তৈরি হলে আপনি যথাযথ সাপোর্ট অর্থাৎ সদস্য, ডোনার এবং রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন কিনা।
বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল কলেজ পর্যায়ে এখন সব অনলাইন ভিত্তিক। এখন পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এসাইনমেন্ট, পরীক্ষা, মূল্যায়ন সব কিছু ইন্টারনেটের মাধ্যমে হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সবার প্রথমে ই-কমার্স সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
ই-কমার্স সম্পর্কে ধারণা দিয়ে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত হতে হবে। ই-কমার্স সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন হলে, ই- কমার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠিত করা কোন ব্যাপার না।
২০১৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘ই-কমার্স ও উদ্যোক্তা ক্লাব’ (ইইসি-জেইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক কমার্স ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সংগঠনটি কাজ করা শুরু করে।
মেকিং আইডিয়াজ হ্যাপেন’ স্লোগানে ‘এ পোর্টাল টু এ ডিজিটাল লার্নিং ফিউচার’ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করে।ই-কমার্স ও উদ্যোক্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ই-লার্নিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ ডেভলপমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, কমিউনিকেশন প্রভৃতির উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করবে এ সংগঠন।
আবার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের কথাই যদি আমরা কল্পনা করি তাহলে দেখা যাবে এখানে শুধুই কেনাবেচাই আসল কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে অনেক প্রতিষ্ঠান। আবার সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছে কোটি কোটি মানুষের কাজ বা আয়ের উৎস। অর্থাৎ পুরো বিশ্বই এখন যুক্ত আছে ই-কমার্সে সঙ্গে।
দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ই-কমার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বেসিক নলেজ সম্পর্কে জানতে পারবে। শিক্ষার্থীরা শুধু মাত্র চাকরির আশা না করে আত্মকর্মসংস্থান এর সুযোগ নিজেরাই সৃষ্টি করবে। শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যে ঐতিহ্যের কথা আছে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। শিক্ষার্থীরা নিজের দেশের পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করতে পারবে।
তাই ই-কমার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা অনেক লাভবান হবে। এখন শুধু এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত করতে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এটাকে বিস্তৃত করতে হবে।
ধন্যবাদ আমার স্বল্প জ্ঞানে ই-কমার্স সম্পর্কে একটু লেখার চেষ্টা করলাম।
Afsana Deepa
Lecturer – Social Work
R.S. Ideal College. Kishoreganj.